যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত চীন সফরের ঠিক আগে আবারও বেইজিং সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। স্থানীয় সময় আজ বুধবার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি বেইজিংয়ে আরাগচির দ্বিতীয় সফর।
এর আগে গত মে মাসেও ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে বেইজিং সফর করেছিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে চীন শুরু থেকেই নিজেকে একটি নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে তুলে ধরে যুদ্ধ থামানোর মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে আসছে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) জোটের সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সদস্য দেশগুলোকে শান্তি প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তবে সরাসরি মার্কিন-ইরান মধ্যস্থতার কোনো ঘোষণা না দিয়ে তিনি সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চার দফা রূপরেখা তুলে ধরেন।
নিউক্লিয়ার ফাইল ও নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গ: বেইজিং সফরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও চীনের সঙ্গে আলোচনা করবেন আরাগচি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের চাপে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ (IAEA)-এর বোর্ডে ইরানকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব পাস হয়েছে। যদিও চীন ও রাশিয়া এর তীব্র বিরোধিতা করায় নিরাপত্তা পরিষদে বড় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পাস হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন সরকারের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনভিত্তিক বিভিন্ন শোধনাগার ও কোম্পানিও চাপের মুখে পড়েছে। তবে এতকিছুর পরও মার্কিন অবরোধ এিড়িয়ে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে প্রধান ক্রেতা হিসেবে বেইজিং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় অটল রয়েছে।
আমার বাঙলা/রাজীব