ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
প্রসঙ্গ: রোহিঙ্গা

বাংলাদেশের প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানাচ্ছে বার্মার রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর প্রতি- যারা সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে।’

‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান অব্যাহত রাখার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানাই। এছাড়া বার্মা থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানাই।’

যুক্তরাষ্ট্র এমন দিনে এ প্রশংসা করেছে, যেদিন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কক্সবাজারে তিন দিনের ‘স্টেকহোল্ডার সম্মেলন’ শুরু হয়েছে। আর পরদিন সোমবার পূর্ণ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ অভিমুখে অনিশ্চিত যাত্রার আট বছর।

কক্সবাজারের সম্মেলনে এদিন যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। এ সম্মেলন থেকে আসা প্রস্তাব এবং বক্তব্যগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে তুলে ধরার কথা বলছে সরকার।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেই ঢলের শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট; এরপর কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে ওই এলাকার ক্যাম্পে বসবাস করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘ সে সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর এই হত্যা ও নির্যাতনকে চিহ্নিত করেছিল ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো ওই হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ হিসাবে বর্ণনা করেছে।

বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর থেকে কক্সবাজার ও উখিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাঁশ আর প্লাস্টিকের খুপড়ি ঘরে বসবাস শুরু করে রোহিঙ্গারা। উখিয়ার কুতুপালং পরিণত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৭ সালের শেষ দিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমারের অং সান সু চি সরকার। ওই বছর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতেও সই করে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলার এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতিতে রোহিঙ্গারা আস্থা রাখতে না পারায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।

এরপর আসে করোনাভাইরাস মহামারী, রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগে ঢিল পড়ে। বিশ্বজুড়ে সেই সঙ্কটের মধ্যেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সু চির দ্বিতীয় দফার সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন সামরিক জান্তা জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

এখন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আর সেভাবে আলোচনায় নেই।

সামরিক জান্তা মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের কয়েক দিন আগে চীনের নেতৃত্ব প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল। তার চূড়ান্ত ফল আর পাওয়া যায়নি।

ওই সময় বাংলাদেশ আশা করেছিল, ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে হয়ত প্রত্যাবাসন শুরু করা যাবে। সেই পরিকল্পনা আর আলোর মুখ দেখেনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকারে রাখা বাংলাদেশ সরকার বারবার অভিযোগ করে আসছে, আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছে।

আমারবাঙলা/এফএইচ/আরএ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তা...

তানজিন তিশাকে কোলে তুলতে গিয়ে হাড় ভেঙেছিল তৌসিফের!

অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব নিজের অভিনয় জীবনের একটি মজার ঘটনা শেয়ার করেছেন। সম্প্রতি...

‘লোক’ এবার যুক্তরাষ্ট্রে

অল্প পরিসরে আর স্বল্প খরচে গল্প তৈরির চ্যালেঞ্জ নিয়ে গত বছর ফ্রেন্ডলি নেইবারহ...

‘ইয়ামালের গাড়ি বা বান্ধবী নয়, ওর খেলা দেখুন’

মাস দুয়েক ধরে মাঠের ফুটবলের চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়েই বেশি আলোচনায় লামিনে...

সিপিএলে আবার সেই সাকিবকেই দেখা গেল

বল হাতে ফিরলেন পুরোনো সাকিব আল হাসান! না, অনেক উইকেট নেননি। ৪ ওভারে ২৫ রান দি...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা