সকালটা ছিল আর দশটা দিনের মতোই স্বাভাবিক। বই-খাতা গুছিয়ে ছোট্ট নওশাদ বেরিয়েছিল প্রাইভেট পড়তে। চোখে ছিল আগামীর স্বপ্ন, আর মনে ছিল নতুন ক্লাসের পড়ার উত্তেজনা। কিন্তু চিরিংগা-বদরখালী সড়কের এক নিমিষের এক দুর্ঘটনা সব স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল। চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী নওশাদ শরীফ নূর (১২) আর কোনোদিন ফিরবে না তার খোন্দকার পাড়ার প্রিয় আঙিনায়।
মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী এলাকা থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে (টমটম) চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল নওশাদ। বাটাখালী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করেই চলন্ত ইজিবাইক থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে যায় সে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক তাকে পিষ্ট করে চলে যায়। পিচঢালা কালো রাস্তা মুহূর্তেই ভিজে ওঠে এক শিশুর লাল রক্তে।
নিহত নওশাদ ওই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ ইউছুফের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মা-স্বজনদের আর্তনাদে বাটাখালী এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, নওশাদ চিরতরের জন্য পাড়ি জমিয়েছে না ফেরার দেশে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, ঘাতক ট্রাকটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ ঘাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমারবাঙলা/এনইউআ