রাজধানীর যে সড়কগুলোতে সাধারণ দিনে যানজটের কারণে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়, শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে সেসব সড়কের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। দক্ষিণখানের আশকোনা থেকে বিশ্বরোড, খিলক্ষেত, কাওলা, নীলা মার্কেট, কুড়িল বিশ্বরোড, উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক– সবখানেই মানুষের চলাচল ছিল তুলনামূলক কম।
স্তায় রিকশা আছে, কিন্তু যাত্রী নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না ভাড়া।
অথচ প্রতিদিনের মতো গ্যারেজের জমা, খাবারের খরচ আর সংসারের দায় তো কমছে না।
দক্ষিণখানের কাওলা জামতলা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ভাড়া থাকেন রিকশাচালক শান্ত।
প্রতিদিন ভোরে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বের হন। রাত ৮টা পর্যন্ত চালিয়ে গ্যারেজ মালিককে ৫০০ টাকা জমা দেন।
শনিবার বিকেলে কথা হলে তিনি বলেন, সকালের রোদের তাপে মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি। তাই যাত্রীও পাইনি। দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৬০ টাকা ভাড়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি আয় হয়নি। এক বছর ধরে রিকশা চালাই, কিন্তু গতকাল আর আজকের মতো এমন খারাপ অবস্থা আগে দেখিনি।
সরেজমিনে আশকোনা থেকে কাওলা, খিলক্ষেত ও কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অন্য দিনের তুলনায় যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ যাত্রী কম, ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতার আনাগোনা নেই বললেই চলে।
এদিকে নীলা মার্কেট এলাকায় একের পর এক রিকশা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী তেমন ছিল না। কেউ ছাতা টানিয়ে বসে আছেন, কেউ গাছের ছায়ায় রিকশা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছেন। অনেকের মুখেই একই কথা, ‘আজ মানুষ বের হয়নি।’
উত্তরার আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর গোলচত্বর ও কুড়িল এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যায়। সাধারণত দুপুরেও যেখানে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ক্রেতাদের ভিড় থাকে, সেখানে এ দিন চলাচল ছিল অনেকটাই কম।
আমার বাঙলা/ রাব্বি