ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ

রাজনৈতিক প্রণোদনা! জোড়া খুন মামলায় নিরপরাধ অহিদের নাম অন্তর্ভুক্ত: দাবি পরিবার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও অহিদ আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বড়লেখায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জানানো হয়।

অহিদ আহমদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের উত্তরভাগ (কাঠালতলী) গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার বড় ভাই মকবুল আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অহিদ আহমদের বড় বোন আকলিবুন নেছা, স্ত্রী পিয়ারা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বিওসি মাঠ গুদাম এলাকায় দুই সহোদর ভাই—জামাল উদ্দিন (৫৬) ও কৃষক আব্দুল কাইয়ুম (৪৯) খুন হন। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অহিদ আহমদকে মামলার ১৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অহিদ আহমদ স্থানীয় দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিন এবং বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে বড়লেখার সদর ইউনিয়নের ইসমাইল আলীর বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তিনি চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিনসহ মুছেগুল বাইতুন নুর জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। মাগরিবের নামাজ শেষে অহিদ আহমদ শিক্ষক কয়েছ আহমদ, মসজিদের মুয়াজ্জিন মেহরাজ মীম এবং শ্রমিক নেতা আবু তাহেরসহ অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ওই সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী এবং মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক লোকেশন যাচাই করলেই তার নির্দোষিতা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা প্রমাণিত হবে বলে দাবি পরিবারটির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অথচ ঘটনাস্থল বা আশপাশে অহিদ আহমদের পরিবারের কোনো জমিজমা নেই। এমনকি ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা বিভিন্ন ফেসবুক চ্যানেলে ঘটনার বর্ণনা দিলেও সেখানে অহিদ আহমদের নাম উল্লেখ করেননি। পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী হালিমা বেগম বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে অহিদ আহমদ ১৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ অহিদ আহমদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জোর দাবি করা হয়।

আমারবাঙলা/এসএবি

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

চরের পথে ঘোড়ার জাহাজ,  চরের মানুষের নিরব সংগ্রাম

‎ভোরের কুয়াশা তখনও কাটেনি। তিস্তার বিস্তীর্ণ বালুচরের ওপর দিয়ে একটি ঘোড...

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর বিএনপি অফিসে ককটেল আহত ৩

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ...

বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে এমপি শওকতুল ইসলাম শকুকে সংবর্ধনা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর...

দ্রুতগতিতে বাইক চালনোয় কথা কাটাকাটি,

সিরাজগঞ্জে দ্রুতগতিতে বাইক চালনোয় কথা কাটাকাটির ঘটনায় ‘সমবয়সী বন্ধুর...

গরম আর শুধু গরম নয়, এটি এক নীরব জাতীয় বিপর্যয়

মোঃ শামীম মিয়া: বাংলাদেশের সামনে জলবায়ুর ভয়ংকর ভবিষ্যৎ জ্যৈষ্ঠের গরম বাংলাদেশ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা