মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার–ভৈরবগঞ্জ–মিরতিংগা চাবাগান ভায়া আঞ্চলিক সড়কটি বালুবাহী ট্রাকের দাপটে প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারি ট্রাকের লাগাতার চলাচলে সড়কের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। উপরের স্তর উঠে সড়কজুড়ে এখন ধুলো–বালুর রাজত্ব।
বালু ভর্তি ট্রাকের কারণে মুন্সিবাজার থেকে মিরতিংগা চাবাগান পর্যন্ত সড়কটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। সারাদিন বালু উড়ে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও পথচারীদের চোখ–মুখে ঢুকে পড়ছে। ধর্মপুর মৌজার গাঁও–সড়কে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ধুলার কারণে ঘরে বসে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া–দাওয়া পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। একটি ট্রাক গেলেই সামনে কিছু দেখা যায় না; দিনের আলোও ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়।
স্থানীয় জব্বার মিয়া বলেন, “সড়কটা এখন বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। খোলা ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে শিক্ষার্থীদের জীবনহানি আশঙ্কা বাড়ছে। ধলাই নদীর প্রথম খণ্ডের ইজারা জনস্বার্থে বন্ধ করা উচিত।”
অন্য বাসিন্দা মনু মিয়া জানান, “ধুলাবালিতে পথচারী ও শিশু–কিশোরদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখের প্রদাহসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।”
শনিবার (১৫ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাখন চন্দ্র সূত্রধরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ধর্মপুর মৌজায় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে। পাঁচ দিনের মধ্যে বালু সরানোর নির্দেশ দিলেও ১৫ দিন পার হলেও ইজারাদারপক্ষ স্তুপাকৃত বালু অপসারণ করেনি।
স্থানীয়রা জানান, ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে লিজের সীমা অমান্য করে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু কৃষিজমিতে জমা করে রাখা হয়। ড্রেজারের উচ্চ শব্দে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ; নদীর সুরক্ষা বাঁধ ধসে পড়ছে। ধলাই নদীর একমাত্র স্টিল ব্রিজটিও ঝুঁকির মুখে। বাঁধ ধসে কয়েকটি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “অবৈধ বালু ব্যবসা ও সড়কের ক্ষতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
● আমারবাঙলা/এফএইচ