বৈশ্বিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়লেও বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করছে না বিশ্ববাসী। রকফেলার ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ৩৪টি দেশের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র বা চীনকে বাদ দিয়ে অন্যান্য দেশের পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই মনে করছেন, গত এক বছরে বৈশ্বিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের দেশের নাগরিকদের মধ্যেও হতাশা বেড়েছে; যার মধ্যে ভারতের ৫০ শতাংশ এবং চীনের ৫৬ শতাংশ নাগরিক নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নতি নিয়ে আশাবাদী নন।
নেতৃত্বে এগিয়ে ‘মধ্যম শক্তিগুলো’
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে দেখতে অনীহা প্রকাশ করলেও কানাডা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ইতিবাচক জনমত দেখা গেছে। এর পরেই রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘ। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৩৭ শতাংশ মানুষ চীনকে নেতৃত্বে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। রাশিয়ার ক্ষেত্রে এই সমর্থনের হার মাত্র ২৬ শতাংশ। রকফেলার ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক পেলোফস্কির মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা, কারণ আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে বিশ্ববাসী এখন আর কেবল আমেরিকার মতামত জানতে উদগ্রীব নয়; বরং ‘মধ্যম শক্তিগুলোর’ ভূমিকা বিশ্বজুড়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি
রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ভাবমূর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে উজ্জ্বল হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর আস্থা বেড়ে ৬৯ শতাংশ এবং জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতি মানুষের আস্থাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও হুমকি মূল্যায়ন
বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হিসেবে ৪২ শতাংশ মানুষ রাশিয়াকে চিহ্নিত করেছেন, যা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এর পরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ইউরোপের ১৪টি দেশে রাশিয়াকে এবং বিশ্বের ১৫টি দেশের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বড় সামরিক ও কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখছেন।
আমার বাঙলা/রাজীব