জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সময় ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে একাধিক দেশের সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ে ফিস-এমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এ ছাড়া জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গেও তার সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেবেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিনে (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক দাতা ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘দি রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রট্রেকটেড ডিপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্বঅনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। একই দিন রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রী আর্দেই প্লেনকোভিচ এবং নরওয়ের প্রেসিডেন্ট ড. জেন্ডা বেলসেনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিকেলে জাতিসংঘের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দি জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায় বৈঠকে পাঁচ মিনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সফরের তৃতীয় দিনে (২৪ সেপ্টেম্বর) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চপর্যায় বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুদিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এদিন স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেবেন তিনি। পরে বাংলাদেশ স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজিত ভোজসভায় অংশ নেবেন।
সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে ওই দিন রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাই হয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আমার বাঙলা/রাজীব