হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এ তথ্য নিশ্চিত করলেও চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে কিছু জানাননি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বাকেই বলেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের পূর্ণ নিশ্চয়তা মিলবে না। তার দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে হয়। ফলে চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এবং তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘খুব শিগগির’ খুলে না দেওয়া হলে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। তবে ইরান বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে—এমন দাবি নাকচ করেছে। তেহরানের ভাষ্য, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা বা এ ধরনের পরিকল্পনা নেই।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্পের এ বক্তব্য সামনে এসেছে। উভয় দেশ ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনায় প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ওমানের সঙ্গে ‘পথটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাকেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার কারণগুলো এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এবং অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
পরে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী ইরনাকে বলেন, নতুন এ পথটি অস্থায়ী হবে। এটি দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটি দিয়ে নৌচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, প্রণালিটি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ইরানের হুমকি।
একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করছে। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন কোনো শুল্কই চায় না।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এ চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপরও তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি