ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলার পর পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে। দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংকটের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির গুপ্তহত্যার বিচার পাওয়া ইরানের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নীতি’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অপরাধের বিচার নিশ্চিতে ইরান আন্তর্জাতিক সব আইনি হাতিয়ার ব্যবহার করবে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান সবসময় নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানও আর এই চুক্তি মেনে চলবে না।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ফ্রান্সের হুঁশিয়ারি
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল বারোট ফরাসি গণমাধ্যমকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ না তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে স্পষ্টভাবে সরে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।
জিসিসি ও জর্ডানের আকাশে চরম উত্তেজনা
কাতারের দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি হামজা মোহাম্মদ জানিয়েছেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (GCC) দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত রাত থেকে চরম ব্যস্ত সময় পার করছে।
বাহরাইন: তিন দফা হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের ঘরের বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কুয়েত: সেনাবাহিনী আকাশে ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
জর্ডান: সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং ইরান থেকে ধেয়ে আসা অন্তত চারটি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করেছে জর্ডান সরকার। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি