মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানো নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর বেইজিং এমন আহ্বান জানাল।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘সামরিক উপায়ে কোনো সমস্যার মৌলিক সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাতের চরম বিস্তার কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে না।’ এ সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান মাও নিং।
হোয়াইট হাউসে বুধবার দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোর হামলার মাধ্যমে ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠানোর হুমকি দেন। এই হামলা অগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চালানো হবে। তাঁর ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিক্রিয়ামূলক বিবৃতি প্রচার করে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আপনাদের অপমান, লাঞ্ছনার স্থায়ী ও নিশ্চিত অনুশোচনা এবং আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে খাতাম আল-আম্বিয়া বলেছে, ‘আরও বিধ্বংসী, ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকুন।’
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের ভাষণের পর ইরান দুই দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট চারবার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে চীন বলেছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাই এই প্রণালিতে সংকটের মূল কারণ। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার মূল কারণ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ সামরিক অভিযান।’
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পায়, তাদেরকে এই পথ সচল রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি দেশগুলোকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা স্রেফ এটি (প্রণালির নিয়ন্ত্রণ) নিয়ে নিন। এটিকে রক্ষা করুন এবং নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করুন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ এমন সময়ে এলো যখন প্রায় ৩৫টি দেশকে নিয়ে যুক্তরাজ্য একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি কীভাবে পুনরায় সচল করা যায় তা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
সংবাদ সম্মেলনে মাও নিং আরও বলেন, ‘সামরিক উপায়ে কোনো সমস্যার মৌলিক সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাতের চরম বিস্তার কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে না।’ এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী’ হামলা চালানো হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হামলার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিক্রিয়ামূলক বিবৃতি প্রচার করে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আপনাদের অপমান, লাঞ্ছনার স্থায়ী ও নিশ্চিত অনুশোচনা এবং আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে খাতাম আল-আম্বিয়া বলেছে, ‘আরও বিধ্বংসী, ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকুন।’
আমার বাঙলা/আরএ