সাতক্ষীরা তালা উপজেলায় বারাত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন ও বিতর্ক।
তথ্য সূত্রে, বারাত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (EIIN: 119026) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিধিবহির্ভূতভাবে অযোগ্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য, প্রতিষ্ঠাতার উত্তরসূরি ও ভূমিদাতা আ. আ. ম. একরামুল হক (আসাদ)।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মরহুম পিতা পীরজাদা মোশাররাফুল হক ১৯৭২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর পরিবার ২১ শতক এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৯ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দান করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ যশোর শিক্ষা বোর্ড তাঁকে বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত করে।
আবেদনে দাবি করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপনে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, শিক্ষায় আগ্রহী খ্যাতিমান ব্যক্তি, সমাজসেবক অথবা প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্য থেকে তিনজন যোগ্য ব্যক্তির নাম শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই নির্দেশনা অনুসরণ না করে একই বিদ্যালয়ের কর্মরত এক আয়ার সতীনপুত্র এবং কথিত ছাত্রদল নেতা বুলবুল ইসলামের নাম প্রথম প্রার্থী হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করেছেন।
আবেদনকারীর দাবি, প্রস্তাবিত ব্যক্তি সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত কোনো যোগ্যতার আওতায় পড়েন না। ফলে তাঁর নাম প্রস্তাব করা সরকারি নীতিমালা ও বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠাতার উত্তরসূরি, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত আজীবন দাতা সদস্য এবং বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা হওয়া সত্ত্বেও আবেদনকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্যের আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি মনোনয়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখা, বিধিবহির্ভূত প্রস্তাব বাতিল করে নতুন করে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম আহ্বান, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি