‘হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও আমার ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি এখানে ৪২ বছর ধরে ব্যবসা করছি। আইনকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করেই ব্যবসা পরিচালনা করি। কেউ বলতে পারবে না, আমি কখনো কারও ক্ষতি করেছি। তবুও আমার ইটভাটাটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নিজের ইটভাটার ভাঙ্গন দেখে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা বলছিলেন দেবিদ্বার এইচবিসি ইটভাটার মালিক সবুর ভূঁইয়া।’
বুধবার (১৩ মে) জেলার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে দুটি ইটভাটাকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাটাগুলোর চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে একটি ইটভাট ছিল সবুর ভূঁইয়ার।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লাইসেন্স ও ছাড়পত্র না থাকায় ওই এলাকার এইচ বি সি ব্রিকস এবং একতা ব্রিকস নামের দুটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইটভাটা দুটির মালিককে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ভেকু দিয়ে ভাটাগুলোর চিমনি ও ইট পোড়ানোর কিলন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাশ। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ আইন অমান্য করে কোনো ইটভাটা পরিচালনা করা যাবে না। যেসব ইটভাটার বৈধ কাগজপত্র ও ছাড়পত্র নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের এই অবস্থান কঠোর থাকবে। ইটভাটা মালিকদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নিয়ে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আমার বাঙলা/আরএ