শিক্ষা খাতকে দুর্নীতি ও দলীয়করণমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হবে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারবে না
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি বিষয়ে আমরা একদম আপসহীন— দুর্নীতি ও দলীয়করণ। শিক্ষা খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব চলবে না। ব্যক্তিগত জীবনে কে কী রাজনীতি করেন, সেটি বিষয় নয়; কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কোনো পলিটিসাইজেশন আমরা হতে দেব না।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা যে লিখিত দাবি পেশ করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনে নামতে না হয়।
শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। আমরা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে তারা অবগত।
কারিকুলাম সংস্কারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদ্রাসা ও আলিয়া— সব ধারাকে একটি সাধারণ কাঠামোর (জেনারেল আমব্রেলা) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা হবে ধীরে ও পর্যালোচনার মাধ্যমে।
এনটিআরসিসহ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে সচিবদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাঠামোগত সাদৃশ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া।
আমারবাঙলা/এসএবি