পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দিবসের সূচনালগ্নে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একে একে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
ভোরের আলো ফুটতেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হন সর্বস্তরের মানুষ। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে একটি প্রভাতফেরি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। প্রভাতফেরিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভুঞার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শিরাজ ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শাজাহান আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য মাইলফলক। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। তাঁরা নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আমারবাঙলা/এসএবি