আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান। মাহে রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙাকে গুরুত্ব দেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানকে ঘিরে খেজুরের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে।
চট্টগ্রাম নগরীর ফলমন্ডি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে খেজুরের সরবরাহে তেমন কোনো ঘাটতি নেই। বিভিন্ন জাতের খেজুরে সয়লাব দোকানপাট। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, আমদানিকারকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না থাকায় মূল্য নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই অজুহাতকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফলমন্ডি এলাকার খেজুরের দোকানগুলোতে তদারকি অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়। অভিযানে অতিরিক্ত দামে খেজুর বিক্রি এবং ক্রয় ভাউচার প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইদিনে চান্দগাঁও এলাকায় আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে আরো ৫৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযান প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, রমজানকে সামনে রেখে কেউ যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ক্রেতাদের দাবি, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। রমজান মাসজুড়ে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তারা।
অন্যদিকে ফলমন্ডি ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা বলেন, সব ব্যবসায়ী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। যারা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রমজানকে ঘিরে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি ও কঠোর মনিটরিং জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমারবাঙলা/এনইউআ