ছবি-সংগৃহীত
শিক্ষা
মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ

ব্যবহারিকের নামে শিক্ষার্থীদের থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ 

মো. নাজির হোসেন: মুন্সীগঞ্জ শহরের সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে জন প্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও কর্মচারিরা যোগসাজশ করে এ অর্থ আদায় করছে।

একাধিক শিক্ষার্থীরা বলছে, কোন রশিদ ছাড়াই ব্যবহারিক পরিক্ষার জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে ফ্রি আদায় করা হয়েছে। ফ্রি না দিলে ব্যবহারিকে নম্বর কম দেওয়া হবে বলে, ভয় দেখানো হয় পরীক্ষার্থীদের। ভয়ে পরীক্ষার্থীরা ওই টাকা দিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সরকারি মহিলা কলেজ সুত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর (এইচএসসি) ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়।এতে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের প্রায় সাড়ে তিনশত শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নেয়।

রোববার পরীক্ষা শেষ হয়। তবে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষকরা বলছেন, শুধু বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই ৪২৯ জন শিক্ষার্থী ব্যবহারিকে অংশ নেয়। এছাড়াও ভূগোলের শিক্ষর্থীও রয়েছে।

গত শনিবার সকালে সরকারি মহিলা কলেজে গেলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে ঢোকার জন্য অপেক্ষা করছেন। কয়েকজন অভিভাবক ও তাদের সঙ্গে রয়েছেন। এ সময় অবৈধভাবে টাকা আদায়ের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অন্যায় ভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে। যেদিন প্রথম ব্যবহারিক পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, সেদিন মুন্না নামে কলেজের এক কর্মচারী আমাদের শিক্ষার্থীদের কে বলেছে ব্যবহারিকে পরিপূর্ণ নাম্বার পেতে হলে ৫০০ টাকা করে দিতে হবে। যারা দিবে তারাই নাম্বার পাবে। যারা দিবে না, তারা কম নাম্বার পাবে। এ ভয়ে সেদিনই অনেকে টাকা দিয়েছিল।

তারা আরও বলেন, যারা টাকা দেয়নি পরদিন পরীক্ষা দিতে এলে তাদের সাথে খুব বাজে আচরণ করেন শিক্ষক, কর্মচারীরা। পরে টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়।

জয় প্রকাশ নামে আমাদের এক পরীক্ষার্থীকে দিয়ে টাকা গুলো উঠানো হয়, তার সঙ্গে আরো কয়েজন ছিল। রোববার পরীক্ষা শেষে ওই টাকা কোন শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করবে শুনেছি। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে এ বিষয়ে আক্ষেপ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা নম্বর কম পাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেনা।

এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ফরম ফিলাপের সময় ব্যবহারিকের জন্য টাকা দিয়েছি। আবার আমাদের থেকে অতিরিক্ত এই ফ্রি অন্যায় ভাবে নেওয়া হলো। দীর্ঘদিন ধরে এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। এগুলো বন্ধ করা দরকার।

টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটির দিন ভিত্তিতে এম এল এস এস আরিফুজ্জামান মুন্না। তিনি বলেন, আমি কাউকে টাকা দেওয়ার কথা বলিনি, টাকাও কারো কাছ থেকে নেইনি।

অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অস্বাীকার করেছেন সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের কোন শিক্ষক, কর্মচারি কোন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়নি। কোন শিক্ষার্থীদের দিয়েও টাকা উঠানো হয়নি।

এ বিষয়ে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের এক পরিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল মতিন বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে অবৈধ ভাবে আদায় করা হয়েছে। এটাকে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম মনে করেছে। প্রতি বছর এমনটা করা হচ্ছে। টাকা দিলে পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। না দিলে দুর্ব্যবহার করা হয়। আমার মেয়ে আমাকে বিষয়টি জানায়। আমিও টাকা দিতে বাধ্য হই। আমার দেখা কয়েকজন অভিভাবক অন্যের কাছ থেকে ধার করে টাকার ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আরা বলেন, বিষয়টি কেউ আমাদেরকে জানায় নি। নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা আদায় করা যাবে না। বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হবে।যদি কেউ এমনটা করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবি/এইচএন

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, গ্রেফতার ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশকে কে...

আফতাবনগরের ফ্ল্যাটে মাদকবিরোধী অভিযান: প্রায় ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩

রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল...

বন্দরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ৫ জন অগ্নিদগ্ধ

নারায়নগঞ্জ বন্দরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন সহ ৫ জন অগ্নিদগ...

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অর্জন নিয়ে প্রশ্ন,

জুলাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন ও তার প্রভাব নির্মূল করা। তব...

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।। ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা