যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান বাণিজ্য নীতির বৈধতার বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে শুক্রবার উচ্চ আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প সব আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান আইন অনুযায়ী, একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। যদিও ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপটিও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ১৫০ দিনের মধ্যে তার প্রশাসন নতুন এবং ‘আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য’ স্থায়ী শুল্ক ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ সম্পন্ন করবে।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি ওই ১৫০ দিন সময়কাল ব্যবহার করে অন্যান্য ‘আইন অনুমোদিত’ শুল্ক জারি করার জন্য কাজ করবেন। তার প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা অথবা অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পণ্য বা দেশের ওপর আমদানি কর আরোপের অনুমতি দেয় এমন আরও দুটি আইনের ওপর নির্ভর করতে চায়।
ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে, বিশ্বব্যাপী দেশগুলির ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়াচ্ছি যা অবিলম্ব কার্যকর হবে, এসব দেশের অনেকে দশকের পর দশক ধরে কোনা উপযুক্ত শাস্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঠকাচ্ছে’ (আমি আসার আগ পর্যন্ত!), ১৫ শতাংশ স্তরটি সম্পূর্ণ অনুমোদিত ও আইনত পরীক্ষিত।”
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়ে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শুল্কের পদক্ষেপ অবৈধ ঘোষণার পর বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে সরে আসার তেমন কোনো লক্ষণ দেখাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘ভয়ানক’ আখ্যা দিয়েছেন এবং যেসব বিচারক তার বাণিজ্য নীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তাদেরকে ‘বোকা’ অভিহিত করে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। এর পাশাপাশি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি যেমনটি উপযুক্ত মনে করবেন সে অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বজায় রাখবেন।
আমারবাঙলা/এসএবি