‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবনসংগ্রাম যদি আমরা লালন ও প্রতিপালন করি, তাহলেই তাঁকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। তাঁর দেখানো পথ আমাদের অনুসরণ করতে হবে। বেগম জিয়ার চিন্তা ও চেতনার ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। শিক্ষার্থীদের মাঝে বেগম জিয়ার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই সব ধরনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোক ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নোবিপ্রবির জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ যৌথভাবে সভার আয়োজন করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর হাত ধরেই দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের যাত্রা শুরু হয়। সমাজ গঠন ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাঁর আদর্শ যদি নতুন প্রজন্ম ধারণ করতে পারে, তাহলে একটি বৈষম্যহীন আদর্শ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে। দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আত্মসম্মানবোধ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। এই দৃঢ়তাই তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর জীবনদর্শন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে-এটাই প্রকৃত দেশপ্রেম।
আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ফখরুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনসংগ্রাম অনুসরণ করলেই তাঁকে যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই সব ধরনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে। বৈষম্য ও শোষণহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্য। আপসহীন নেত্রী হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চির অম্লান হয়ে থাকবে।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর সরকার, বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, উপ-রেজিস্ট্রার মো. ইসমাইল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আমারবাঙলা/এসএ