নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আরও উন্নত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন ভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা হুমকি নেই।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ঢাকায় বর্তমানে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা রাস্তা অবরোধ নেই। প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের এই নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন বেশ ভালো।”
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার জানান, ঢাকা মহানগরের মোট ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৫১৭টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্গম এলাকায় অবস্থিত আরও ৩৭টি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে চারজন করে, সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন করে এবং দুর্গম কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের পেশাদার দায়িত্ব পালনই প্রমাণ করে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছে না। তিনি আরও জানান, এই নিরাপত্তা পরিকল্পনায় শুধু ভোটার নয়—সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন দমন এবং ইনকিলাব মঞ্চে চলমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, “সরকারপ্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নীরব থাকতে পারে না।” তিনি স্পষ্ট করেন, অশান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরকারি স্থাপনায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম জানান, ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ব্যালট পেপারের মুড়ি গণনা করা হবে। ব্যালট বাক্সে থাকা ব্যালটের সংখ্যা মুড়ির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে এবং বাইরে থেকে ঢোকানো কোনো ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
তিনি ভোট সংক্রান্ত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
আমারবাঙলা/এসএবি