জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কোনো শক্তির দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত। তবে কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় সরকার; বিচারিক প্রক্রিয়াতেই আদালত নির্ধারণ করবে দলটির ভবিষ্যৎ।
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই ৩৬ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, নিপীড়ন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের আন্দোলন গড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, কোনো আন্দোলনকে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিলে তা একসময় সহিংস রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেটিকে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। জুলাই সবার।”
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি। সংস্কার কমিশন ও রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সংসদে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন একটি সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় ইলিয়াস আলীসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলোকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি