দেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। অনুকূল আবহাওয়া, বাম্পার ফলন, দেশীয় বাজারে চাহিদা এবং রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলার বিভিন্ন আম বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের অন্যতম বৃহৎ কানসাট আম বাজারে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। এছাড়া রহনপুর, ভোলাহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুরাতন আম বাজারেও প্রতিদিন হাজারো মণ আমের লেনদেন হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় জেলার আম বাণিজ্যের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সদরঘাটের আম আড়ৎদার মানিক জানান, বাজারে প্রতিদিনই দামের ওঠানামা করছে। বর্তমানে প্রতি মণ ফজলি আম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, আম্রপালি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং বারি-৪ জাতের আম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, দেশের মোট আম উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চাঁপাইনবাবগঞ্জে হয়। তবে আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে এই খাতের মূল্য সংযোজন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. বুলবুল আহম্মেদ বলেন, চলতি মৌসুমে আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং কৃষকরাও সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম বাণিজ্যের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি