কক্সবাজারের চকরিয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বালু ও মাটিখেকো চক্রের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক এ.কে.এম ইকবাল ফারুকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) বিকেলে উপজেলার হারবাং এলাকায় চিহ্নিত একটি দখলবাজ চক্রের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এই নৃশংস হামলার শিকার হন তিন সাংবাদিক।
অভিযোগ উঠেছে, হারবাং এলাকার চিহ্নিত বালু ও মাটি দখলচক্রের হোতা নাজিম উদ্দীন ও তার বাহিনীর সশস্ত্র হামলায় আহত হন
এ.কে.এম ইকবাল ফারুক (চকরিয়া প্রতিনিধি, দৈনিক আমার দেশ)
ছোটন কান্তি নাথ (চকরিয়া প্রতিনিধি, দৈনিক কালের কণ্ঠ)
এম জিয়াবুল হক (চকরিয়া প্রতিনিধি, দৈনিক সংবাদ)
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ইকবাল ফারুক
আহতদের মধ্যে সাংবাদিক ইকবাল ফারুকের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে চকরিয়া মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের ভেতরে গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণের ফলে তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে মাত্র ৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বর্তমানে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ও পজিটিভ (O+) রক্ত সঞ্চালন করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হারবাং এলাকায় নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমির মাটি দখল করে আসছে। গত রবিবার ওই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এদিকে ঘটনার বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত মূল হোতা নাজিম উদ্দীনসহ হামলাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার ও চকরিয়ার সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।