বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে “মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব”-এর নাম ব্যবহার করে কথিত একটি অবৈধ কমিটি প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুমোদনবিহীন কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কথিত কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে প্রিন্ট কপিতে ২০২৫ সাল উল্লেখ থাকায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, প্রকাশিত কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ, ভিত্তিহীন এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। তাদের ভাষ্য, প্রেসক্লাবের কোনো বৈধ সভা, সাধারণ সদস্যদের মতামত বা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই একতরফাভাবে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমান দায়িত্বশীলরা জানান, একটি স্বীকৃত ও কার্যকর কমিটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বৈধ কমিটি বহাল থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে আরেকটি কথিত কমিটি প্রকাশ করা সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এটি সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বলেও তারা মনে করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ উপজেলা প্রেসক্লাবের কাউকে অবগত না করেই মোরেলগঞ্জ পুরাতন থানা রোড এলাকায় একই নামে আরেকটি ক্লাব স্থাপন করেছে। এতে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে বিভাজন তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই সাংবাদিক সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসক্লাব নেতারা।
প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বলেন, একটি পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সদস্যদের অংশগ্রহণই কমিটি গঠনের মূল ভিত্তি। এসব নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে সংগঠনের নাম ব্যবহার করা অনৈতিক এবং সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও সংগঠনবিরোধী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপতৎপরতা অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা কমিটি-সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার না করতে। তারা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের একমাত্র বৈধ ও স্বীকৃত ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিই বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে। কমিটির সভাপতি এইচ. এম. শহিদুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিব সজল যিশু ঢালী। এর বাইরে প্রকাশিত কোনো কমিটির সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একটি সাংবাদিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের ঐক্য, পেশাগত নৈতিকতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমারবাঙলা/এসএ