-
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্যাহ জানান, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। এ স্বাক্ষর-গড়মিলের কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর হাটহাজারী উপজেলা এবং নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৫ সংসদীয় আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সুযোগে গত ৯ আগস্ট ‘ঐক্য সম্মেলন’ আয়োজন করে দল থেকে আলাদা অবস্থান নেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদারসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। পরে রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন অংশ থেকে বেরিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ ও আবু হোসেন বাবলাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ ডিসেম্বর আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি–জেপিসহ ২০ দলের সমন্বয়ে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)’ নামের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই জোটের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রথমবার ১৯৭৯ সালে বিএনপির টিকিটে চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনেও তিনি জয় লাভ করেন।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন তিনি। পরবর্তী তিনটি সংসদেও জাতীয় পার্টির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে এরশাদ সরকারের আমলেও তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
আমারবাঙলা/এনইউআ