যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ব্লাত এবং ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় একাধিকবার এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। যদিও প্রতিদিনের চলমান এই হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
আল জাজিরার বরাতে বলা হয়েছে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি কারণ বেশিরভাগ হামলা বন ও পাহাড়ের মধ্যবর্তী খোলা জায়গায় চালানো হয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের আকাশে এখনও ইসরায়েলি সামরিক বিমান উড়তে দেখা যাচ্ছে।
লেবাননের আল-মায়েদিন চ্যানেল নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইকলিম আল-তুফাহর উচ্চভূমি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে। এদিকে, হিজবুল্লাহর আল-মানার টিভি জানিয়েছে, মারকাবা শহরে ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন থেকে তৃতীয়বারের মতো বিস্ফোরক দ্রব্য নিক্ষেপ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার মানুষ। গত সপ্তাহেও বেকা উপত্যকা ও সিডনের কাছে আইন আল-হিলওয়াহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন।
এদিকে লেবানন সরকার জানিয়েছে, লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে আরও চার মাস সময় প্রয়োজন। গোষ্ঠীটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েল যতক্ষণ লেবানন আক্রমণ ও দখল করে রাখবে ততক্ষণ তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।
অন্যদিকে, একই দিনে ইরানেও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি