কাতারের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বুধবার (৪ মার্চ) ভোরের দিকে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র সঙ্গে যুক্ত দুইটি পৃথক গুপ্তচর চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অবকাঠামো সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারের পাশাপাশি দেশটিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারে এমন গ্রেপ্তার অভিযান আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কাতারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ১০ জনের মধ্যে সাতজন সরাসরি গুপ্তচরবৃত্তির মিশনে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল কাতারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটির অবস্থান এবং এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করা।
বাকি তিনজনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা সামরিক ড্রোন পরিচালনা ও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কাতারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে আকাশপথে কোনো বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল এই চক্রটির।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা আইআরজিসি-র সঙ্গে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে তারা সরাসরি ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের নির্দেশে কাতারের সামরিক অবকাঠামোতে নাশকতামূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম এবং ড্রোন সংক্রান্ত নথি জব্দ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এই চক্রের সদস্যরা কতদিন ধরে কাতারে সক্রিয় ছিলেন সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কাতার একটি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও আইআরজিসি-র এই অনুপ্রবেশ দেশটিকে নিরাপত্তা বিষয়ে আরও কঠোর হতে বাধ্য করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই তেহরান হয়তো তাদের গুপ্তচরদের সক্রিয় করেছে।
কাতারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন দেশজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো বিদেশি নেটওয়ার্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। ইরানের পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তার অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বিবিসি