কিছু অভিনেতার ক্যারিয়ারে একটি মাত্র চরিত্রই এনে দেয় আজীবনের পরিচিতি। সদ্য প্রয়াত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াতও তেমনই একজন। তামিল ও তেলুগু ‘গজনি’ সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। তবে অনেকের অজানা, হিন্দি ‘গজনি’ সিনেমায় আমির খানের যুক্ত হওয়ার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই অভিনেতার।
কীভাবে আমির খানকে সিনেমাটিতে অভিনয়ে রাজি করিয়েছিলেন, সেই গল্প দুই বছর আগে সিদ্ধার্থ কান্নানের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন প্রদীপ রাওয়াত।
তিনি জানান, এস এস রাজামৌলির সিনেমার সেটে এ আর মুরুগাদোসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন তেলুগু সিনেমায় তিনি পরিচিত মুখ। ‘লাগান’ দেখে রাজামৌলির টিম তাকে খুঁজে বের করে এবং ‘সাই’ সিনেমার জন্য অডিশনের প্রস্তাব দেয়।
প্রদীপ বলেন, “প্রথমে চরিত্রটি ছিল একজন কলেজছাত্রের। পরে রাজামৌলি আমার বয়সের সঙ্গে মানিয়ে চরিত্রটিকে একজন গুন্ডার রূপ দেন।”
তিনি জানান, হায়দরাবাদে ‘সাই’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় এ আর মুরুগাদোস কয়েকবার তার মেকআপ রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছিলেন। পরে পরিচয় দিয়ে মুরুগাদোস জানান, তিনি একজন পরিচালক এবং একটি সিনেমার জন্য প্রদীপকে ভাবছেন।
প্রদীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মুরুগাদোস ইংরেজি বা হিন্দিতে খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। প্রথমে তিনি ‘গজনি’ সিনেমার জন্য সালমান খানকে নিতে চেয়েছিলেন। তবে প্রদীপ মনে করেছিলেন, আমির খান চরিত্রটির জন্য বেশি উপযুক্ত হবেন।
তিনি বলেন, “আমিরকে আমি বহু বছর ধরে চিনি। তাকে কখনো কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। তাই মনে হয়েছিল, মুরুগাদোসের সঙ্গে কাজের জন্য আমিরই সঠিক পছন্দ।”
এরপর প্রদীপ সরাসরি প্রস্তাব না দিয়ে প্রথমে আমির খানকে তামিল ‘গজনি’ সিনেমাটি দেখান। সিনেমার গল্প ও চরিত্র দেখে মুগ্ধ হয়ে আমির নিজেই সেটি হিন্দিতে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন প্রদীপ জানান, মূল পরিচালক মুরুগাদোসই হিন্দি সংস্করণটি নির্মাণ করতে চান। এভাবেই তৈরি হয় আমির খান অভিনীত ব্লকবাস্টার ‘গজনি’।
উল্লেখ্য, ক্যানসারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় ৭৪ বছর বয়সে মারা যান প্রদীপ রাওয়াত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতাল থেকে ভিওয়ান্ডির একটি ক্যানসার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি