প্রজ্ঞাপন জারী হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে। প্রস্তাবিত নারায়ণগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের বাস্তবে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী - একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হোক নারায়ণগঞ্জে।
বিগত সব সরকারের আমলেই এ দাবী উত্থাপিত হয়েছে বারবার। প্রতিশ্রুতিও মিলেছে অনেক,কিন্ত আলোর মুখ দেখেনি এ দাবী। অবশেষে প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়।ব্যাস,এ পর্যন্তই।
প্রজ্ঞাপন জারীর পর এখনো প্রকল্পটির দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। শিল্প অধ্যুষিত ও ঘনবসতিপুর্ন এ জেলায় জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্য সেবা খুবই অপ্রতুল। নেই হৃদরোগ,কিডনি ডায়ালাইসিস,বার্ন ইউনিট,ইউরোলজী সেবা।নেই জরুরী সেবার পর্যাপ্ত অবকাঠামো।ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকায় ছুটতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবী দীর্ঘদিনের হলেও জেলা প্রশাসন,স্বাস্থ্য বিভাগ, এমনকি জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২০২২ সালের জানুয়ারী মাসে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদল স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারীর পর মেডিক্যাল কলেজের স্থান নির্ধারণ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দেয়।
তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের তিনজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের স্বীদ্ধান্তে অনড় থাকলে স্হান নির্ধারণ কিংবা জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
পরবর্তিতে খানপুর ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকেই পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রুপান্তরিত করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্ত স্হানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষের বিরোধীতার কারণে সেই স্বীদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,২০২২ সালে সদর উপজেলার তিনটি স্হান- চর বক্তাবলী,জালকুড়ি এবং কুতুবপুর এই তিন জায়গার যে কোন একটিতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়।কিন্ত তারপরও অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটির দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই।
আমার বাঙলা/আরএ