আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির কতা স্বরণ করিয়ে দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের মধ্যে গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুলে না যায়। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং বিশ্বে ক্ষমতার পরিবর্তনশীল কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মহাসচিব।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এসময় গুতেরেস বলেন, দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের গাজায় যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, বিশ্বের কোনোভাবেই সেদিক থেকে দৃষ্টি সরানো উচিত নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরাইলের যে অভিযান শুরু হয়েছে, সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন মাত্রায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের বছরগুলোতে তিনি বহু যুদ্ধ ও সংকট দেখেছেন। তবে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে মাত্রায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা তার দেখা অন্য যেকোনো পরিস্থিতির তুলনায় ভিন্ন মাত্রার।

ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গেও রাশিয়ার সমালোচনা করেন গুতেরেস। তিনি রাশিয়ার ‘পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন’কে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে ইউক্রেন একটি ‘নিষ্ঠুর যুদ্ধের’ মধ্যে পড়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের সম্মুখসারির বাইরে এখনও বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন। এর বেশির ভাগ ঘটনা ইউক্রেনে ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার কিছু এলাকাতেও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় গুতেরেস বলেছেন, প্রযুক্তিগত কিংবা অর্থনৈতিক শক্তিও একা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না। শক্তিকে আইনের অধীনে পরিচালিত করার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ কার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাধ্যম শক্তি বা বলপ্রয়োগ হতে পারে না। একবিংশ শতাব্দীতে শান্তি বলতে শুধু যুদ্ধ না হওয়াকে বোঝায় না; এর সঙ্গে সংযমের উপস্থিতিও জরুরি।

বিশ্বে ক্ষমতার কাঠামো কীভাবে বদলে যাচ্ছে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেছেন, বর্তমানে তিনটি প্রধান উপায়ে বিশ্বে ক্ষমতার বিন্যাস পরিবর্তিত হচ্ছে।

প্রথমত, বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে নতুন নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবকেন্দ্র গড়ে উঠছে। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতার একটি বড় অংশ ক্রমেই বেসরকারি করপোরেশন ও ব্যক্তির হাতে চলে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের কাছেও ক্ষমতা স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের উন্নয়নও রয়েছে।

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

পর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি: মীর হেলাল উদ্দিন

পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় ও অংশীদা...

পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়ার জয়জয়কার

রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিম...

তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৭.৫ ডিগ্রিতে

এক দিনের বিরতির পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আজ সোমবা...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ ঘিরে নিউইয়র্কে ব্যাপক কৌতূহল

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নিউইয়র্কজুড়ে...

মিয়ানমারের সঙ্গে ড্র করে এশিয়ান গেমস শেষ করল বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসে হারের বৃত্ত থেকে অবশেষে বের হয়ে এল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। গ্র...

‘প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা’

প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সুরক্ষার অভাবে পুরো উপত্যকা আজ ধ্বংসস্তূপে পরি...

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরণের রদবদল করা হয়েছে। এতে পুলিশের ডিআইজি, অত...

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশ-জনতার সমন্বয় বাড়াতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় আরও জোর...

ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের গাজার ভয়...

মার্শাল আর্টে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করলেন জিন্নাত

এশিয়ান গেমসের উশু (মার্শাল আর্ট) ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতু...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা