যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিয়োত্তির ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করেছে মার্কিন প্রশাসন। দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিয়োত্তির ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তবে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “এখানে একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এটি কাউকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার মতো কোনো পদক্ষেপ নয়।”
ব্রাজিল সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অনুমোদন আটকে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভিয়োত্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ব্রাজিলের মনোনীত রাষ্ট্রদূতের অনুমোদন দেওয়া হলে ভিয়োত্তির ভিসা পুনর্বহাল করা হবে। এর আগ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন।
তিনি বলেন, “এর অর্থ হলো, তিনি বর্তমানে বৈধ ভিসা ছাড়াই এখানে অবস্থান করছেন। আমাদের মনোনীত রাষ্ট্রদূতের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হলে তার ভিসাও পুনরায় কার্যকর করা হবে।”
ব্রাজিলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী ড্যানি পেরেজকে এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ওয়াশিংটন ক্ষোভ প্রকাশের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পেরেজ ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর রিপাবলিকান মিত্র। গত জুন মাসে তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হলেও মার্কিন সিনেটের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন এখনও মেলেনি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ব্রাজিল সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের আগেই প্রকাশ্যে পেরেজের মনোনয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ব্রাজিল সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এটিকে কূটনৈতিক প্রোটোকল লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ার আগে ব্রাজিল পেরেজের মনোনয়ন খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা করছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এই অনুমোদন ছাড়া পেরেজ রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।
রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরোর কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রাজিল। প্রতিনিধিদলটি দেশটির নির্বাচনব্যবস্থাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে কাজ করতে পারে এমন উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেশটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি