সৌদি আরবের কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নাডিক কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে দালালের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দেশটিতে যান ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন। রিয়াদে পৌঁছানোর পর সেখানে থাকা আরেক দালালকে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি।
আরিফের মতো আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে রিয়াদের একটি স্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দেন ওই দালাল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নাডিক কোম্পানিতে কোনো কাজ পাননি তারা। কয়েক দিন অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে আরিফ মক্কায় গিয়ে অন্য একটি কাজে যোগ দেন।
এরপর সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন তিনি। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করেও কোনো আয় করতে পারেননি বলে জানান আরিফ। পরে জেল খেটে গত ২২ জুলাই দেশে ফেরেন তিনি।
আরিফ হোসেন বলেন, “নাডিক কোম্পানিতে কাজ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এক মাস পার হলেও কোনো কাজ দেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে মক্কায় গিয়ে অন্য কাজ শুরু করি। ৪ জুলাই সৌদি পুলিশ আমাকে আটক করে। প্রায় ১৬-১৭ দিন জেলে থাকার পর ২২ জুলাই দেশে ফিরেছি।”
তবে শুধু আরিফ হোসেনই নন, এই তালিকায় আরো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন। দেশটিতে গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।
আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠিয়েছে বলে ওই সময় প্রকাশিত গালফ নিউজের সংবাদে জানানো হয়। একইসঙ্গে, জুন মাস থেকে চলা এসব অভিযানে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি