মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক পদক্ষেপ নিয়ে দেশটিতে অসন্তোষ বাড়ছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন নাগরিক তার অভিবাসননীতি ও তা বাস্তবায়নের পদ্ধতির ওপর আস্থা হারিয়েছেন। অনেকের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন ইস্যুতে জনসমর্থন কমে গেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিষয়টি এখনো অর্থনীতি কিংবা ইরান ইস্যুর চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
রোববার প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩৯ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন। অথচ তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এ হার ছিল ৪৯ শতাংশ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক জনসমর্থন কমলেও রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান এখনও বেশ শক্তিশালী। প্রতি ১০ জন রিপাবলিকান সমর্থকের প্রায় ৮ জন অভিবাসন ইস্যুতে তার পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। যদিও দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এ সংখ্যা ছিল প্রতি ১০ জনে প্রায় ৯ জন। অর্থাৎ, নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যেও সমর্থন কিছুটা কমেছে, তবে তা এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।
জরিপে আরও দেখা যায়, রিপাবলিকানদের কাছে অর্থনীতি বা ইরান ইস্যুর তুলনায় ট্রাম্পের অভিবাসননীতি বেশি গ্রহণযোগ্য। গত মাসে এপি-এনওআরসি পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি রিপাবলিকানদের সমর্থন কিছুটা কমেছে।
সম্প্রতি পলিটিকোর একটি জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মেগা) সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটারদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। সাধারণত এই ভোটাররাই ট্রাম্পের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প সীমা লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা নিয়ে মার্কিনিরা বিভক্ত। প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, বৈধ অভিবাসন সীমিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘অনেক বেশি বাড়াবাড়ি’ করেছেন। আবার ৪৭ শতাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
খুব কমসংখ্যক রিপাবলিকান তথা প্রতি ১০ জনে দুজন বা তারও কম সংখ্যক মনে করেন, দেশে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের বহিষ্কার করা বা বৈধ অভিবাসন সীমিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ করেছেন।
অর্থনীতি বিষয়েও ট্রাম্পের সামগ্রিক জনসমর্থন কমেছে। প্রতি ১০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে মাত্র ৩ জন অর্থাৎ ৩২ শতাংশ তার অর্থনীতি পরিচালনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ শুরুর অবস্থানের তুলনায় তার জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি