মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটায় প্রবেশের ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেনের এক মন্ত্রী। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন শুক্রবার এক্সে এক পোস্টে স্পেনের অভিবাসন সংকট নিয়ে কটাক্ষ করে আফ্রিকায় স্পেনের ঔপনিবেশিক ছিটমহল প্রসঙ্গ তুললে তা শেয়ার করে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে মন্তব্য করেন, বিষয়টি এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।
স্পেনের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, ইরান ও গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থানের প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির জন্য সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে। বামপন্থী দল রিপাবলিকান লেফট অব কাতালোনিয়ার মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল রুফিয়ান এবং অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমও একই দাবি তুলেছেন। পর্তুগালের সাবেক মন্ত্রী ব্রুনো মাকায়েস বলেন, ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জড়িত ছিল কি না নিশ্চিত না হলেও, ঘটনার পর স্পেন সরকারের বিরুদ্ধে বিষয়টি ব্যবহারে তারা গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিল বলে তার ধারণা।
স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউটায় প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিশু। অনেকে সাঁতরে সীমান্ত পার হন, আর ছিটমহলে পৌঁছাতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্রান্স তাদের সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানালেও ইতালি ইইউর মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা থেকে স্পেনকে স্থগিত করার হুমকি দেয়। তবে শনিবার স্পেন জানায়, সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইতিমধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কিছু বিশ্লেষক অবশ্য এই সংকটের জন্য মরক্কোকেও দায়ী করছেন, তাদের ধারণা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সাম্প্রতিক আলজেরিয়া সফরে ক্ষুব্ধ হয়ে মরক্কো এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গবেষক লরেনজো গাব্রিয়েলি বলেন, একদিনে এত মানুষের সীমান্ত পার হওয়া মরক্কোর সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়। সেউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস এ ঘটনাকে স্পেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানালেও স্পেনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত কারিমা বেনইয়াইচ দাবি করেন, এই সীমান্ত পারাপার মরক্কো সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ঘটেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আমার বাঙলা/ তালহা