পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং সিন্ধ প্রদেশে আফগান সন্ত্রাসীদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার জবাব দিতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নিহত এই সন্ত্রাসীরা সবাই পাকিস্তানের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সদস্য ছিল। আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর আদর্শে আড়াই দশক আগে পাকিস্তানে গঠিত এই দলটিকে বেশ কয়েক বছর আগে নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তানের সরকার। সরকারিভাবে এই গোষ্ঠীকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ বলা হয় পাকিস্তানে। আতালউল্লাহ তারারও তার এক্সবার্তায় নিহতদের ফিৎনা আল খারিজির সদস্য বলে উল্লেখ করেছেন।
আগের দিন শনিবার রাতে সিন্ধ রাজ্যের রাজধানী করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্সের প্রাদেশিক সদর দপ্তরে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, এতে নিহত হয়েছিলেন রেঞ্জার্সের তিন কর্মকর্তা। সেই হামলার পরেই রোববার এ অভিযান পরিচলনার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পাক সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শনিবার রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে সন্ত্রাসীরা হামলার করলে পাল্টা হামলা শুরু করেন রেঞ্জার্স সদস্যরা। তাদের হামলায় ৩ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১ জন। আহত সেই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা ‘জামাতুল আখবার’ নামে একটি পৃথক গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটি টিটিপিরই একটি শাখা গোষ্ঠী।
পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়ার ৪০টি জেলার মধ্যে যে ৯টি জেলার সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে পাকিস্তানের; বাজউর সেসবের মধ্যে অন্যতম। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের এক্সবার্তা থেকে জানা গেছে, রোববারের অভিযানে বাজাউর জেলার সীমান্তের ওপারে টিটিপি ওরফে
ফিৎনা আল খারিজি’ এবং জামাতুল আহরারের জঙ্গিদের আস্তানা এবং স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে টিটিপির উচ্চপর্যায়ের কমান্ডার খান ফারোশ আকা জাবাল নিহত হয়েছেন বলে এক্সবার্তায় জানিয়েছেন তারার। খান ফারোশ আকা জাবাল জামাতুল আহরারের শীর্ষ সংগঠক ছিলেন বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী।
ভাষা, ধর্ম, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একসময় মিত্রতা থাকলেও টিটিপিকে ঘিরে গত প্রায় ৫ বছরে চরম তিক্ততায় পৌঁছেছে দু’দেশের সম্পর্ক, বিশেষ করে ২০২১ সালে তালেবানগোষ্ঠী আফগানিস্তান দখল করার পর থেকে। ইসলামাবাদের অভিযোগ—পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য টিটিপিকে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার; তবে তালেবান সরকার সবসময়েই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এ ঘটনার পরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে পাকিস্তান। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ ঘোষণা করেন, হামলার জবাব দিতে অপহৃত সেনাদের উদ্ধারে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
আমার বাঙলা/ রাব্বি