সারাদেশ

দুই ছেলের মৃত্যুতে দিশেহারা সেকান্দর

সোহেল তাজ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দুই ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সীতাকুন্ডের উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দা সেকান্দার আলী। অনর্গল কাঁদছিলেন তিনি। তার বারবার মনে হচ্ছিল, এখন কীভাবে চলবে সামনের দিনগুলো।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাগর উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস রিসাইক্লিং শিপইয়ার্ডে এলএনজি নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সেকান্দার আলীর দুই ছেলে মনসুর ও নাসিরও রয়েছেন।
একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় সেকান্দার। বাবাকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে তার ৩ নাতনি।
দুই ছেলের মরদেহ রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। শোকে পাথর হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেকান্দার। তার পাশে কাঁদছিলেন নাতনিরাও। নিহত নাসিরের এক মেয়ে এবং মনসুরের দুই মেয়ে আপন মনে কাঁদছিলেন। বাবাকে হারিয়ে তাদের চোখেমুখে এখন অনিশ্চয়তা।

মর্গের বাইরে অপেক্ষারত সেকান্দার আলী অশ্রুসজল নয়নে বলেন, ১৭ বছর ধরে আমার দুই ছেলে ওই শিপইয়ার্ডে কাজ করে আসছে। কিন্তু কোনো সময় কোনো বিপদের মুখে পড়েনি। এখন আমাকে একসঙ্গে দুই ছেলেকে হারাতে হলো। আর কোনো দিন আমার সন্তানরা বাবা বলে ডাকবে না।
তিনি বলেন, এখন আমার নাতনিদের কী হবে, সেই ভাবনাই অস্থির করছে আমাকে। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমাকে ছেলেদের জীবনের জন্য হারাতে হয়েছে। এ ঘটনার পর আহত ছেলেরা যদি সময়মতো চিকিৎসাসেবা পেত, তাহলে হয়তো তাদের প্রাণ যেত না।
নিহত মনসুরের বড় মেয়ে রুপা আক্তার বলেন, শুক্রবার বন্ধের দিন। কিন্তু বাবাকে তারা জোর করেই ইয়ার্ডে নিয়ে যায়। সকালে দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা আহতদের ইয়ার্ডের ভেতরে গেট বন্ধ করে রাখা হয়। সে সময়ে দ্রুত চিকিৎসা পেলে বাবা হয়তো বেঁচে যেতেন। আমার তাই মনে হচ্ছে। রুপা বলেন, এখন আমাদের কে দেখবেন? কী হবে আমাদের? কী করে চলব বাকি জীবন? এমন শত শত প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। আমাদের কোনো ভাই নেই। আমরা তিন বোন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বাবা।

এদিকে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। এলাকাবাসী বলেন, নাসির ও মনসুর দুই ভাইই এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সবাই তাদের ভালোবাসতেন। তারা হাসিখুশি থাকতেন। দুই ভাইয়ের মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। নিহতদের পরিবারকে সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তাও দেয়া হবে।

আমার বাঙলা/আরএ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

আমন্ত্রণ বিভ্রাট ও অনুপস্থিতির  প্রশ্নে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান

রাজীব দাস ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রি...

লক্ষ্মীপুরে ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্মীপুরে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু...

সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

স্বাস্থ্যসেবার উদ্ভাবনকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকে...

বিচারের কাঠগড়ায় ইউপি সচিব

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুকে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু...

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অতীতের ১৫ বছর থেকে নতুন দিকে নিতে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক 'রিসেট' বা নতুনভাবে শুরু করতে চায় উল্ল...

জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারি উদ্যোগে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা

শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমে...

সাড়ে ৬ কোটি বছর পর মিলল ডাইনোসরের চলার পথ

জীবাশ্মবিদেরা এমন এক জীবাশ্ম পদচিহ্নের সন্ধান পেয়েছেন, যেটিকে পূর্ণবয়স্ক টাইর...

ভবিষ্যৎমুখী আইনেই এগোবে বাংলাদেশ

ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চাবিকাঠি বলে মন্ত...

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি নয়, চাই মুক্তবুদ্ধির চর্চা

শিক্ষককে হতে হয় জ্ঞানের বাহক, বিবেক জাগ্রত করার সহযাত্রী এবং মানুষ গড়ার কারিগ...

এশিয়া কাপের ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল বিসিসিআই

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এশিয়া কাপের ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা