সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শুরু থেকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে র্যাব-৯।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি র্যাব-৯ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে মোট ৪০টি দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৫টি ম্যাগাজিন, ৯ হাজার ৬২৫ গ্রাম বিস্ফোরক, ৫৪টি ডেটোনেটর, একটি সাউন্ড গ্রেনেড, ৫টি পেট্রোল বোমা, ১১টি ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে র্যাব-৯ এর সাফল্য সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে র্যাব-৯ এর সিপিসি-২, মৌলভীবাজারের একটি আভিযানিক দল গত ২৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানাধীন মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর–পাত্রখোলা সড়কের পেচারপুল ব্রিজের আশপাশে কয়েকটি এয়ারগান পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ঝোপের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় ৫টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে র্যাব-৯ এর সিপিসি-২ এর আরেকটি দল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানাধীন কালাপুর ইউনিয়নের শ্রীমঙ্গল–মৌলভীবাজার সড়ক সংলগ্ন একটি ভিটায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে ঝোপের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৪টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত এয়ারগানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব এয়ারগান নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত এয়ারগানগুলো জিডিমূলে মৌলভীবাজার জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯, সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমারবাঙলা/এসএ