হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর সম্প্রতি সরকারের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রথম শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চলটি থেকে সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যেতে হবে। পাশাপাশি চলমান সংঘাতে ইরানের যে আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। বিভিন্ন দেশে আটকে রাখা বা জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করার শর্তও দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এগুলো ইরানের সর্বস্তরের জনগণের দাবি, যা গত ১৬০ দিন ধরে তারা জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগ্রাসী নীতি ও আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এই কৌশলগত সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করা হবে না।’
এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে তেহরান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক পদক্ষেপের ওপর।
বিশেষ করে জুনে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের দায় যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকার করতে হবে এবং এ বিষয়ে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও জানান আরাগচি।
এদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নাব্যতা ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ পরিবেশে এগিয়েছে।
অন্যদিকে শুক্রবার (৭ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে জানায়, ওমানের প্রস্তাবিত সম্ভাব্য খসড়া চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। চূড়ান্ত নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি