কক্সবাজারের পেকুয়ায় সরকারি বনভূমি রক্ষায় গিয়ে বালিখেকো সিন্ডিকেটের হাতে রক্তাক্ত হলেন বন কর্মকর্তারা। গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি ঢালারমুখ এলাকায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও বালি উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় বালিখেকো চক্রটি ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে গুজব ছড়িয়ে বন কর্মকর্তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (রেঞ্জার) খাইরুজ্জামান ও টইটং বিট অফিসার এহসানুল হকসহ আরও কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
গভীর রাতে পাহাড়খেকোদের যজ্ঞ
পেকুয়ার শিলখালী, বারবাকিয়া ও টইটংয়ের নিভৃত পাহাড়গুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টার পর এই এলাকাগুলোতে বিভীষিকা নেমে আসে। দানবীয় এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় খুঁড়ে অবৈধ ডাম্পারের মাধ্যমে বালি ও মাটি পাচার করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব ও বড় অংকের টাকার ‘কন্ট্রাক্টে’ এই চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে, খোদ প্রশাসনের ওপর হামলা চালাতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না।
রেঞ্জ কর্মকর্তার জবানবন্দি
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খাইরুজ্জামান বলেন, "আমরা খবর পেয়েছিলাম দুর্গম পাহাড়ে বালি লুট হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে সেখানে অভিযানে গেলেই পরিকল্পিতভাবে আমাদের ঘিরে ফেলা হয়। তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে 'ডাকাত' বলে চিৎকার করে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। বালিখেকো সিন্ডিকেট আমাদের মেরে ফেলার চেষ্টা করলেও আমরা সরকারি সম্পদ রক্ষায় পিপা পা হইনি। দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
পুলিশের বক্তব্য ও মামলার প্রক্রিয়া
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তারা বিস্তারিত তথ্যসহ আবেদন করলেই আমরা মামলা নথিভুক্ত করব। যারা আইনের ওপর হাত তুলেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।"
মৃত্যুফাঁদে পেকুয়ার রাস্তাঘাট
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড় কাটা মাটির কারণে পেকুয়ার পিচঢালা রাস্তাগুলোর অস্তিত্ব সংকটে। কালো রাস্তার ওপর কাদার পুরু আস্তর জমে যাওয়ায় সাদা দাগগুলো পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তাগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সামান্য টাকার লোভে এরা পাহাড় সাবাড় করছে, আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।"
আমারবাঙলা/এনইউআ