ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় জুটি জাফর ইকবাল ও ববিতা। রুপালি পর্দার এই জুটি ক্যারিয়ারে একসঙ্গে প্রায় ৪০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাদের সম্পর্ক নিয়ে একসময় বিনোদন অঙ্গনে নানা আলোচনা ও গুঞ্জনও ছিল। দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা।
ববিতা জানান, প্রয়াত চিত্রনায়ক জাফর ইকবালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সেই সম্পর্ক কখনো বিয়ে বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে এগোয়নি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘তাকে আমি ভালোবাসতাম, সেও আমাকে ভালোবাসত।’
ববিতা বলেন, অল্প বয়সেই জাফর ইকবালের সঙ্গে তার পরিচয় ও কাজের শুরু। তখন তার বয়স ছিল ১৫-১৬ বছর। একসঙ্গে একাধিক সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, যা পরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।
তিনি বলেন, ‘জাফর ইকবাল ছিল খুবই সুদর্শন ও স্মার্ট। ভালো গান গাইত, গিটার বাজাত এবং ভীষণ ভদ্র ছিল। একসঙ্গে কাজ করতে করতে আমাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। দর্শকরাও আমাদের জুটিকে খুব পছন্দ করতেন।’
ববিতা জানান, শুটিংয়ের ফাঁকে অন্যরা আড্ডায় ব্যস্ত থাকলেও তারা দুজন প্রায়ই গান করতেন। জাফর ইকবাল তাকে গিটার বাজিয়ে ইংরেজি গানও শিখিয়েছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। ভুল-বোঝাবুঝির কারণে দুজনই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ববিতার ভাষ্য, সম্পর্কের সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গেলেও তা তিক্ততায় রূপ নেয়নি।
তিনি বলেন, ‘প্রেম হলেই তো বিয়ে করতে হয় না।’
এদিকে, জাফর ইকবালের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী, হয়ে কারও ঘরণী’ নিয়েও একসময় প্রচলিত ছিল, গানটি নাকি ববিতাকে উদ্দেশ্য করেই গেয়েছিলেন তিনি। তবে এই ধারণা নাকচ করে ববিতা জানান, গানটির পেছনে ব্যক্তিগত কোনো ঘটনা ছিল না; এটি ছিল নির্মাতাদের পরিকল্পনার অংশ।
জীবনের শেষ দিকে আবারও একটি সিনেমার শুটিংয়ে জাফর ইকবালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল বলে জানান ববিতা। তখন তাকে অসুস্থ ও কিছুটা অগোছালো মনে হয়েছিল তার। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জাফর ইকবালের মৃত্যুর খবর পান তিনি।
অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখতে না পারলেও মৃত্যুর পর এফডিসিতে গিয়ে শেষবারের মতো সহশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান ববিতা।
আমার বাঙলা/ রাব্বি