সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

গাজায় নিহত ৫২, হামলা জোরদারের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরো ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। এর ফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫১ হাজার ১৫০ ছাড়িয়ে গেছে।

গত ১৮ মার্চ গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় এক হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমন অবস্থায় গাজায় আক্রমণ আরো জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রবিবার (২০ এপ্রিল) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এবং সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

আল জাজিরা বলছে, শনিবার দিনজুড়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং এর ফলে কমপক্ষে ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে হামাস আরেকটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরায়েলি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এবং বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে সংঘাতের অবসানের জন্য চুক্তির দাবি জানানোর পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধের জন্য যখন চরম মূল্য দিতে হচ্ছে তখন ইসরায়েলের জয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

হামাস জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি-আমেরিকান বন্দি এডান আলেকজান্ডারকে ধরে রাখা প্রহরীর লাশ উদ্ধার করেছে। তবে ওই বন্দির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি।

পৃথক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ভূখণ্ডটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ হাজার ১৫৭ জনে পৌঁছেছে বলে শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরো ২১৯ জনকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ১৬ হাজার ৭২৪ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো প্রায় চার হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এ ছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পশ্চিম তীর সফরের অনুমতি দিল না ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফাকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রাম পরিদর্শনের অনুমতি দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এসব শহর ও গ্রাম বারবারই অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে আসছে।

এই ঘটনাটিকে বিপজ্জনক নজির হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তা। রবিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফাকে দখলকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি গ্রাম ও শহর সফরের অনুমতি দেয়নি— যেখানে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। বিষয়টি শনিবার নিশ্চিত করেছেন এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা।

মুআয়্যাদ শাবান— যিনি বসতি ও দেয়াল প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান— তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে বলেন, ইসরায়েল রামাল্লাহর পূর্বে অবস্থিত বুরকা ও দেইর দিবওয়ান এবং নাবলুসের দক্ষিণে দোমা ও কুসরা গ্রামগুলোতে প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফার সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষ গত কয়েক মাস ধরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস আক্রমণ ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

শাবান জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলের মধ্যে যে চুক্তি রয়েছে, তার আওতায় ফিলিস্তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যেকোনো চলাচলের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক, কারণ তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীও থাকে। কিন্তু এবার সেই সমন্বয় ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে, যেটিকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে উল্লেখ করেছেন শাবান।

এদিকে এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মূলত অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের চাপে ইসরায়েল সরকারের নতিস্বীকার। জানা গেছে, তারা প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে সফর বন্ধের দাবি তোলে এবং ইসরায়েলি সরকার সে দাবি মেনেই ফিলিস্তিনি এই প্রধানমন্ত্রীর সফরের অনুমতি দেয়নি।

আনাদোলু বলছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরে প্রায় সাত লাখ ৭০ হাজার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে, যারা ১৮০টি বৈধ ঘোষণা করা বসতি এবং ২৫৬টি অননুমোদিত আউটপোস্টে বসবাস করেন। এর মধ্যে ১৩৮টি আবার কৃষিজ ও পশুপালন নির্ভর বসতি।

আমারবাঙলা/এমআরইউ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

পড়াশোনার স্বপ্ন বুকে নিয়ে মুহিবুর, যুদ্ধের ময়দানে ড্রোন হামলায় নিহত

বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন বুকে নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন মৌলভীবাজারের তরুণ মুহিবুর রহমা...

ওয়াইফাই সার্ভিসে কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুণের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরিফ আহমদ (১৯) নামে এক ওয়াইফাই...

কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা: নারীসহ গুলিবিদ্ধ অন্তত ১২

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। স...

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আজ শেষ...

জার্মানিতে ফিল্মফেস্ট ব্রেমেন পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের ‘আলী’

জার্মানিতে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ফিল্মফেস্ট ব্রেমেন ২০২৬-এ বাংলা...

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব সদস্যদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন...

দেড় মাসের শিশুকে নিয়েই কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া যুব...

জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমা...

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে যা বললেন বিএনপি নেত্রী সেলিমা রহমান

সংরক্ষিত নারী আসনে ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তরা গণতন্ত্র উত্তরণে কাজ...

বাড়ছে যানবাহনের ভাড়া ও দ্রব্যমূল্য: ডা. জাহেদ

যেহেতু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য র...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা