নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ

ফুলবাড়ীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, চরম ভোগান্তিতে মোটরসাইকেল চালকরা

অমর গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা-তে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় সবকটি ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরের পর থেকে উপজেলার লক্ষীপুর, পুটকিয়া, বারাইহাট, রাঙামাটি, রাজারামপুর ও তেঁতুলিয়া এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের আশায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাননি।

জানা গেছে, এর আগে প্রথম পর্যায়ে ২০০ টাকা এবং শনিবার ১০০ টাকার মধ্যে সীমিত পরিমাণ পেট্রোল বিক্রি করা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সকাল থেকেই বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। জরুরি কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার পাঠকপাড়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, “গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তেল পাইনি। আজ ফুলবাড়ীর ইসলাম ফিলিং স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল নিতে পেরেছি।” একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন মহেশপুরের আব্দুর আজিজ, মেলাবাড়ীর গোলাম মোস্তফা ও গনিপুরের রহমান মিয়াসহ অনেকেই।

এদিকে, শহরের বিভিন্ন খোলা বাজারে বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে তেল না পাওয়া গেলেও খুচরা দোকানে সহজেই পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ সিন্ডিকেটের কারণে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ফুলবাড়ীর একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. লিটন সরকার জানান, “শুক্রবার (২৭ মার্চ) মাত্র ৬ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছিলাম, যা সেদিনই শেষ হয়ে গেছে। পেট্রোল ও অকটেনের কোনো বরাদ্দ না থাকায় শনিবার সকাল থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।”

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও বাজার তদারকি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, “তেল সংকট নিরসনে দ্রুত সভা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত বিক্রেতাদের ওপর প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে।”

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা কোম্পানিগুলোকে এশিয়ার পরবর্তী বৃহৎ অর্থনৈতিক ব...

জামগাছ থেকে পড়ে ইমন নামে এক যুবকের মৃত্যু

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় জামগাছ থেকে পড়ে মো. ইমন নামের...

ফরিদপুরের সালথায় কৃষি মাঠ থেকে হাত-পা কাটা মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একটি কৃষি মাঠ সংলগ্ন সড়ক থেকে হাত-পা কাটা অবস্থায় পান...

মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে!

দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...

মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে!

দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...

জামগাছ থেকে পড়ে ইমন নামে এক যুবকের মৃত্যু

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় জামগাছ থেকে পড়ে মো. ইমন নামের...

চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা কোম্পানিগুলোকে এশিয়ার পরবর্তী বৃহৎ অর্থনৈতিক ব...

ফরিদপুরের সালথায় কৃষি মাঠ থেকে হাত-পা কাটা মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একটি কৃষি মাঠ সংলগ্ন সড়ক থেকে হাত-পা কাটা অবস্থায় পান...

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা