জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের নির্বাহী দপ্তরের অধীনে কাজ করবেন।
এ নিয়ে কেন এই পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে তার দায়িত্ব কী এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে দেখা গেছে।
কাজ কী?
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লিগ্যাল অফিসার জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং সরাসরি সাধারণ পরিষদের সভাপতির আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিভিন্ন আইনগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে সভাপতিকে পরামর্শ দেওয়াই এই পদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন কীভাবে উত্থাপন করা হবে, কোনো সদস্য রাষ্ট্র পয়েন্ট অব অর্ডার তুললে সভাপতি কী সিদ্ধান্ত দেবেন, কিংবা কোনো প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না এসব বিষয়ে লিগ্যাল অফিসার সভাপতিকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দিতে পারেন।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সভাপতির সিদ্ধান্ত যেন জাতিসংঘ সনদ, বিধি ও প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করতে আইনি পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব আগের নিয়ম কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, অথবা কোনো বাজেটসংক্রান্ত প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অন্য কোনো কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না এসব বিষয়ও লিগ্যাল অফিসার যাচাই করতে পারেন।
এ ছাড়া সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি সংস্থার সমন্বয়েও ভূমিকা রাখবেন লিগ্যাল অফিসার। আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনগত বিষয়ে সভাপতিকে বক্তব্য দিতে হলে সেই বক্তব্যের খসড়া তৈরিতেও সহায়তা করতে পারেন তিনি।
সব মিলিয়ে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যক্রম যেন জাতিসংঘের সনদ, বিধি, আইন ও প্রচলিত রীতিনীতির কাঠামোর মধ্যে থাকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা দেওয়াই লিগ্যাল অফিসারের মূল দায়িত্ব।