ছবি: আমার বাঙলা
সারাদেশ

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি সার্বিক উন্নতি হয়েছে।

মনু,ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্র বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে তারা বাড়ি ফিরেছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার। জেলায় এপর্যন্ত সরকারি ভাবে ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে টেংরা ইউনিয়নের মনুনদীর ২টি স্থান উজিরপুর, একামধু ও কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে বের হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে।

বন্যায় ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেকই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৪ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে টেংরা ইউনিয়নের মনুনদীর ২টি স্থান উজিরপুর, একামধু ও কুলাউড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আশরাফ আলী নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেকই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে বের হয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে।

বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা এলাকায় মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরে মনুনদীর একামধু এলাকায় মনু প্রকল্পের বাঁধে দ্বিতীয় ভাঙ্গন দেখো দিলে টেংরা, মনসুরনগর ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের আরো ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

প্লাবিত গ্রাম গুলো হলো- টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর, আকুয়া, সৈয়দনগর, টগরপুর, কোনাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ, পাইকপাড়া, নওয়াগাঁও, গনেশপুর। মনসুরনগর ইউনিয়নের-শ্বাসমহল, বকসীকোনা, মালিকোনা, প্রেমনগর, গোবিন্দশ্রী এবং রাজনগর সদর ইউনিয়নের গয়ঘর, ডলা, মহাসগস্র ও দত্তগ্রাম।

অপরদিকে কুলাউড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনুনদীর বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।

বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, পানিতে তোড়ে ভেসে গিয়ে বৃদ্ধ আশরাফ আলী নিখোজ হলে দীর্ঘ সময় খোজাখোজির পর আকুয়া এলাকায় মনু নদীর রিং বাঁধের সাথে শুক্রবার সকালে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করে জানান, সংশ্লিষ্ট সকলকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহবায়ন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ৩টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।

এদিকে মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনিঘাট পয়েন্টে মনুনদীর পানি শুক্রবার সকাল ৯ টায় বিপদ সীমার ৭৫ সে: মি: উপর দিয়ে প্রবাহি হচ্ছে। কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় বর্তমানে জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। এর মধ্যে ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার বন্যার্থ মানুষ আশ্রয় নেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকৎসিক বন্যা দেখা দেয়। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ৩টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ধলাই নদীর ভাঙ্গনের স্থান মেরামত নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি রয়েছে ভারতের। তবে সুযোগ পেলে ওই স্থান মেরামতসহ জেলার নদীর প্রতিরক্ষার বাঁধ গুলো ভাঙ্গন রোধে তারা সর্তক নজদারি রাখছেন।


আমার বাঙলা/ রাব্বি

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বিয়ের দুই বছর পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলিপুরস্থ ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাইউরিপাড়া গ্রামে মিলি আক্...

পূবাইল রেলস্টেশন বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার ও সম্পাদক আরিফ

উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূবাইল রেলস্টেশন বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ...

মনোহরদীর পলাতক কুখ্যাত আসামী 'নয়ন ডাকাত ' সেনবাগ থেকে গ্রেপ্তার 

নরসিংদীর মনোহরদী থানার একাধিক মামলার গ্রেফতারি পরোনাভুক্ত এবং দীর্ঘদিনের পলাত...

কুষ্টিয়ায় রাতের অন্ধকারে কেটে ফেলা হলো ১৫টি ফলজ ও বনজ গাছ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আমানতপুর গ্রামে এক কৃষকের ফলজ ও বনজ বাগা...

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশাবাদ, জমজমাট জেলার আম বাজার

দেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে ২ হাজার কোটি টাক...

বৃষ্টির পানিতে ভরেছে কাপ্তাই হ্রদ, বাড়ল বিদ্যুৎ উৎপাদন

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বেড়েছে। এতে কাপ্তাই জলবিদ্য...

বন্যার পানি নামছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে রাঙ্গামাটি

বৃষ্টি কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পানি ন...

মেসির স্বপ্নভঙ্গের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর...

বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে, আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টির পর আপাতত কিছুটা স্বস্তির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদ...

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭ ঘরই তালাবদ্ধ, বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা