বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হামলার হুমকির বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেন আমির হামজা।
ফেসবুকে তিনি লেখেন— ‘একটু জানিয়ে রাখি, গতকাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হ/ত্যা/র হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের কাছে অনুরোধ রইল, আমার অনুপস্থিতিতে কুষ্টিয়াতে যে ইনসাফ কায়েমের লড়াই আমরা শুরু করেছি, সেটা প্রতিষ্ঠিত কইরেন এবং আমার তিন শিশু কন্যাসন্তানকে একটু দেখে রাইখেন।’
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে মুফতি আমির হামজার এমন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কুষ্টিয়া সদর আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার পুরোনো একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে তাকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে উপস্থাপন করতে দেখা যায়।
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রয়াত একজন ক্রীড়া সংগঠককে নিয়ে আমির হামজার অসৌজন্যমূলক বক্তব্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে বক্তব্যটি ২০২৩ সালের দাবি করে ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন আমির হামজা।
এদিকে, গত শুক্রবার রাতে লিখিত প্রতিবাদে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে একটি ইতর প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এমন অশালীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষার ব্যবহার একজন ইসলামি বক্তার কাছ থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাশা করা যায় না। আমির হামজার বক্তব্য উসকানিমূলক ও চক্রান্তমূলক দাবি করে তা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার শামিল বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন।
এদিকে দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় আমির হামজা বলেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে নিয়ে আমার দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের। আমি সে সময় একটি বিষয় বোঝাতে গিয়ে উদাহরণটি দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এখন আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি।’
বক্তব্যটি কাটাছেঁড়া করে ছড়ানো হয়েছে দাবি করে আমির হামজা বলেন, ‘পুরোনো বক্তব্য যাঁরা সামনে এনে নির্বাচনকালীন সময়ের বক্তব্য বলে চালানোর ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁরাও নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন মরহুম ব্যক্তিকেও ছাড় দিলেন না।’
আমারবাঙলা/আরআরপি