ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

মাছ-মুরগি-ডিমের দামে আগুন, নাকাল নিম্ন-মধ্যবিত্ত

খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দামে স্বস্তি ফিরছে না। বিশেষ করে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আয় একই থাকলেও খাদ্যপণ্যের পেছনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬৫০ টাকা দরে। গরুর মাংসের দামও কম নয়—কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। বাজারভেদে সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডজন ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

একজন মুরগি বিক্রেতা জানান, আগের সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে গিয়েও ক্রেতাদের বাজেট বেড়ে যাচ্ছে। বাজারে তেলাপিয়া কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকার ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা এবং ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, বাইন ৬০০-৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। চাষের কইয়ের দাম প্রায় ৩০০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে ইলিশের বাজারও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আর ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

মিরপুরের এক ক্রেতা মীর শাহাদাত হোসেন দারু বলেন, মাছ কিনতে এসে প্রতিদিনই নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২৫০ টাকার নিচে মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলাপিয়ার মতো তুলনামূলক কম দামের মাছও এখন কেজিতে আড়াইশ টাকার কাছাকাছি।

তার ভাষ্য, পরিবারের আয় বাড়েনি, অথচ বাজার খরচ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে মাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলে খাবারের খরচ চালানো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

এক মাছ বিক্রেতা জাকির হোসেন এর দাবি, মাছের দামে প্রতিদিন কিছুটা ওঠানামা থাকলেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। কোনো দিন ২০-৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যাচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ, মুরগি ও ডিম—এই তিনটি মৌলিক খাদ্যপণ্য কিনতেই এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একটি পণ্যের দাম সামান্য কমলে অন্যটির দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার ব্যয়ে তেমন কোনো স্বস্তি মিলছে না।

বাজারের এই পরিস্থিতিতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য বাজেটের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমার বাঙলা/ রাব্বি

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের...

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে যা জানাল দিল্লি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধ...

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হ...

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শরিফুলের জোড়া উইকেট

মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরও বল হাতে দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। তাস...

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতির

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতি...

যৌন ব্যবসার অভিযোগে বাংলাদেশিসহ আটক ২৬

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের মাধ্যমে পরিচালিত কথিত যৌন ব্য...

মাছ-মুরগি-ডিমের দামে আগুন, নাকাল নিম্ন-মধ্যবিত্ত

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দামে স্বস্তি ফিরছে না। বিশেষ করে মাছ,...

সম্পর্কটা ভালোবাসার নাকি অভ্যাসের?

সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর একটি ছোট্ট মেসেজও অনেক আনন্দের কারণ হয়ে ওঠে। তার প্রশ...

আশুলিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪ সক্রিয় কর্মী গ্রেপ্তার

সাভারের আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চার সক্রিয়...

হাওরবাসীর গল্পে রুনা খান

‘হালদা’ ও ‘ছিটকিনি’র পর নতুন সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত স...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা