নেত্রকোনার মদনে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদী পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর পাকা/অর্ধ পাকা ইরিবোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কেটে আনা ধান শুকানো না যাওয়ায় ধানে গেজ হচ্ছে। আর গবাদি পশুর খাদ্য ধানের খর জমিতে পড়ে পঁচে যাচ্ছে। বর্তমানে পুরো হাওড় এলাকার কৃষক পরিবারে চলছে হা হা কার। উপজেলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে মদন পৌরসভা-সহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের হাওড়ে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর ইরিবোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এবার ধানের ফলনও ভাল হয়েছিল। কৃষকগণ ধান কাটার জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছিল। কিন্তু হাঠাৎ গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পৌরসভা-সহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে বিভিন্ন হাওড়ে পানি প্রবেশ করে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
৮হাজার ৪৭০ জন কৃষক ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছেন। টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পর শুক্রবার আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলেও রাত থেকে রোববার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কেটে আনা কৃষকের ধানে গেজও পচন ধরছে। কৃষকরা ধান কেটে স্কুল মাঠ , বাড়ি ও রাস্তার আঙ্গিনায় খলা করে রেখেছেন। উপজেলার ফতেপুর ও তিয়শ্রী ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ও বর্গা চাষী সবল মিয়া, ডলার চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, বিদ্যা মিয়া, মজলু খান জানান আমরা ঋণ করে বর্গা চাষে বিভিন্ন হাওড়ে কয়েক একর ইরিবোরো ধান আবাদ করেছিলাম। জমিগুলো কাটার জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পানি প্রবেশ করে আমাদের কয়েক একর রোপনকৃত জমিতে পানি প্রবেশ করে ধান তলিয়ে গেছে। এভাবে আরো বহু কৃষকের জমি তলিয়েছে। আমরা সারা বছর কি খাব, কিভাবে মহাজনের ঋণ সুদ করবো এই নিয়ে হাওড় পাড়ের কৃষক পরিবার গুলো খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছে। যাও কিছু ধান সংগ্রহ করেছি তাও বর্তমানে ধানের ব্যাপারীরা কিনছে না। ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফি জানান যে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কৃষকদের ইরিবোরো ধানে যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তাতে কৃষকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের তালিকা তৈরি করে কৃষকদের পূর্ণবাসন করার জন্য সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে মদনের হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির পাকা/অর্ধ পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৮ হাজার ৪৭০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ক্ষতি গ্রস্ত কৃষক ও ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নিরুপনের জন্য কাজ চলছে। দ্রুত কৃষকদের পূর্ণবাসনের কাজ শুরু করা হইবে।