রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চায় ইউক্রেন। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে কিয়েভ। বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মার্কিন পক্ষের কাছে তাদের প্রস্তাবগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষই জানিয়েছিল, মার্কিন প্রতিনিধিরা শিগগিরই দুই দেশ সফর করতে পারেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো হলে মস্কো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে তা শেষ করার বিষয়ে প্রস্তুত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করলেও এখনো কিয়েভ সফর করেননি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেন বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। রাশিয়াও যুদ্ধের সমাপ্তি চাওয়ার কথা বলেছে। তবে মস্কোর শর্তের মধ্যে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া এবং সংঘাতের কথিত ‘মূল কারণ’ সমাধানের বিষয় রয়েছে।
এদিকে জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার দাবি, নির্বাচনের পর এই সমাবেশের মাধ্যমে যুদ্ধের প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের একটি বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হতে পারে।
তবে রুশ কর্মকর্তারা এর আগে নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া প্রায় চার বছর আটক থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, মানবিক কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন। এ মুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বন্দিকে ছাড়েনি বলেও জানান তিনি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি