চলতি বছরের জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে দেশটি থেকে সরিয়ে নেয় হোয়াইট হাউস। ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্প ও তাঁর বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি থাকায় বিশেষ কৌশলে খাবার পরিবহনের কার্টে করে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয়। সোমবার এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে ফেরার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি বিমানে ফিরবেন বলে জানানো হয়েছিল। ক্যামেরার সামনেও তাঁকে ওই বিমানে উঠতে দেখা যায়।
পরে জানা যায়, পুরো ঘটনাটিই ছিল নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া একটি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল। ট্রাম্পকে খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ কার্টে করে বিমানের নিচ থেকে বের করে আনা হয়। এরপর গাড়িতে করে তাঁকে অন্য একটি বিমানে নেওয়া হয়। ওই বিমানেই গোপনে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর আগে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টও ট্রাম্পকে গোপনে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই অভিযানের খবর প্রকাশ করেছিল। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে বহনকারী তৃতীয় বিমানটি ছিল সি-৩২এ, যা বোয়িং ৭৫৭-এর সামরিক সংস্করণ। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রতিরক্ষা দপ্তরও এ-সংক্রান্ত প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে।
এর আগে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তুরস্ক থেকে ট্রাম্পকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু তাকে টার্গেট বানিয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায়—বিভ্রান্তি তৈরি ও ভুল পথে পরিচালিত করার কৌশলসহ—ব্যবহার করি।’
ট্রাম্পকে গোপনে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সম্ভাব্য হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন। এ কারণে হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদেরও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, ট্রাম্প যে বিমানে উঠেছিলেন, সেটিতেই তিনি তুরস্ক ছাড়বেন। কিন্তু পরে জানা যায়, সেটি ছিল মূলত একটি ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তি তৈরির ব্যবস্থা। প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্পকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে সম্ভাব্য হুমকিটি কাতারের দেওয়া নির্দিষ্ট ওই বিমানের বিরুদ্ধে ছিল না বলে জানা গেছে। এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ট্রাম্প যে বিমানেই ভ্রমণ করতেন, সেটিই সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারত।
ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে ফেরার পরদিন সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে স্টিভেন চেউং বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক বিমান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।’
আমার বাঙলা/ রাব্বি