সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকায় একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে কসটেপে মোড়ানো প্রেসারকুকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি প্রেসারকুকার বোমা কি না, তা নিশ্চিত হতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান স্থানীয়রা। ড্রামের ভেতরে কাপড়চোপড়, কোরআন শরিফ ও একটি প্রেসারকুকার ছিল।
পরে স্থানীয়রা ড্রাম থেকে প্রেসারকুকারটি বের করে মসজিদের মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের দাবি, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি সেখানে রেখে যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
বুধবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রেসারকুকারটি ঘিরে রাখে। পরে সেটি বোমা কি না, তা নিশ্চিত করতে বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়।
ওসি সাইফুল আলম বলেন, ড্রামের ভেতর থেকে কাপড়চোপড়, কোরআন শরিফসহ প্রেসারকুকারটি পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি প্রেসারকুকার বোমা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে হেমায়েতপুরে বোমা উদ্ধারের ঘটনা
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকা থেকে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুরে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
অভিযানে সেখান থেকে নয়টি পাইপসদৃশ বোমা, জঙ্গি সংগঠন জেএমবির বেশ কিছু লিফলেট এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তাদের আগে কোনো সন্দেহ ছিল না। গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে একজনসহ আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে আসেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়।
তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, পরিবার নিয়ে সেখানে থাকবেন এবং সন্তানদের পাশের একটি স্কুলে ভর্তি করাবেন। তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন বলেও জানিয়েছিলেন। বাসার ভেতরে এ ধরনের জিনিস রাখা হবে, তা তারা জানতেন না বলে দাবি করেন ইলমা।
ওসি সাইফুল আলম জানান, হেমায়েতপুরের ওই ঘটনায় মোট ১৪টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি